প্রতিষ্ঠানের কৌশল তৈরি: লক্ষ্য, বাজেট ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নির্ধারণের ব্যবহারিক গাইড

webmaster

조직 전략 개발 - Photorealistic strategic planning workshop in a modern Bangladesh office, diverse business team gath...

প্রতিষ্ঠানের কৌশল তৈরিতে আগে লক্ষ্য, বাজার, সক্ষমতা ও ঝুঁকি যাচাই করুন। এই গাইডে কৌশল কাঠামো, KPI, বাজেট অগ্রাধিকার, পরামর্শক নেওয়ার সময় এবং বাস্তবায়ন ভুল এড়ানোর মানদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

조직 전략 개발 관련 이미지 1

প্রতিষ্ঠানের কৌশল তৈরি শুরু হয় তিনটি প্রশ্নে: কোথায় যেতে চান, এখন কোন অগ্রাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং অগ্রগতি কীভাবে মাপবেন। লক্ষ্য, বাজেট, দায়িত্ব ও KPI একসঙ্গে নির্ধারণ না করলে পরিকল্পনা বাস্তব কাজে নামানো কঠিন হয়।
নিজস্ব টিম, কৌশল পরামর্শক বা পরিকল্পনা সফটওয়্যার—কোনটি উপযুক্ত হবে তা নির্ভর করে আপনার ডেটার মান, টিমের সময়, কাজের জটিলতা এবং বাস্তবায়ন সহায়তার প্রয়োজনের ওপর। সব উদ্যোগে একসঙ্গে বিনিয়োগের বদলে সীমিত কয়েকটি অগ্রাধিকার বেছে নেওয়া সাধারণত বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
বাজার, গ্রাহক, প্রতিযোগী ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিলে কৌশল কেবল একটি নথি হয়ে থাকে না। বিভাগভিত্তিক মালিকানা, সময়সীমা এবং নিয়মিত পর্যালোচনাও সমান জরুরি।
নিচের কাঠামোটি লক্ষ্য নির্ধারণ থেকে বাজেট বণ্টন, KPI নির্বাচন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

এক নজরে

  • কৌশল শুধু দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নয়; এটি অগ্রাধিকার, সম্পদ বণ্টন ও কাজের দিকনির্দেশ ঠিক করে।
  • পরিমাপযোগ্য KPI ছাড়া পরিকল্পনার অগ্রগতি ও সমস্যা শনাক্ত করা কঠিন হয়।
  • নিজস্ব টিম, পরামর্শক বা সফটওয়্যার বাছাইয়ের আগে বাজেট, ডেটা নিরাপত্তা, কাস্টমাইজেশন ও বাস্তবায়ন সহায়তা যাচাই করুন।
বিকল্প কখন বিবেচনা করবেন মূল শক্তি যা যাচাই করা জরুরি
নিজস্ব টিমে পরিকল্পনা নেতৃত্ব দল সময় দিতে পারে এবং ভেতরের তথ্য সহজলভ্য প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা ও কর্মীদের জ্ঞান সরাসরি যুক্ত হয় সিদ্ধান্তের মালিকানা, নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও ফলো-আপের সময়
কৌশল পরামর্শক জটিল সিদ্ধান্ত, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বা কাঠামোবদ্ধ কর্মশালার প্রয়োজন হলে বাহ্যিক বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা কাজের পরিধি, তথ্য গোপনীয়তা, কর্মী অংশগ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহায়তা
পরিকল্পনা ও KPI সফটওয়্যার বহু কাজ, বিভাগ বা রিপোর্ট এক জায়গায় সমন্বয় দরকার হলে লক্ষ্য, দায়িত্ব, সময়সীমা ও রিপোর্টিং দৃশ্যমান রাখা কাস্টমাইজেশন, অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, ডেটা নিরাপত্তা ও ব্যবহার সহজতা
Advertisement

কৌশল তৈরির আগে যে চারটি সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করা জরুরি

কৌশল তৈরির প্রথম কাজ বড় একটি পরিকল্পনা লেখা নয়। আগে সাফল্যের অর্থ, বর্তমান সমস্যার অগ্রাধিকার, উপলভ্য সম্পদ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পরিষ্কার করতে হবে। এই চারটি বিষয় অস্পষ্ট থাকলে বিভাগগুলো একই শব্দ ব্যবহার করেও ভিন্ন দিকে কাজ করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও সাফল্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ

লক্ষ্য এমনভাবে লিখুন যাতে নেতৃত্ব দল বুঝতে পারে কোন পরিবর্তনটি দেখতে চায়। শুধু “প্রবৃদ্ধি চাই” বা “সেবা উন্নত করতে হবে” বললে অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়। এর বদলে লক্ষ্যটির সঙ্গে কোন ফলাফল দেখা হবে, কে দেখবে এবং কোন তথ্য দিয়ে তা যাচাই হবে—এসব ঠিক করুন। লক্ষ্য ও মাপজোকের ভাষা যত পরিষ্কার হবে, বাস্তবায়ন নিয়ে তত কম বিভ্রান্তি থাকবে।

কোন সমস্যা এখনই সমাধান করা সবচেয়ে মূল্যবান

সব সমস্যা সমান জরুরি নয়। বাজার পরিবর্তন, গ্রাহকের চাহিদা, প্রতিযোগিতার চাপ, পরিচালনাগত বাধা এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা একসঙ্গে দেখে বাছাই করুন। একটি সহজ প্রশ্ন কাজে লাগে: “এই সমস্যাটি না মেটালে লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে বেশি বাধা কোথায় থাকবে?” সীমিত বাজেট ও ব্যবস্থাপনা মনোযোগকে কয়েকটি উচ্চ-অগ্রাধিকার উদ্যোগে রাখুন।

নেতৃত্ব দলের সিদ্ধান্তের সীমা ও দায়িত্ব ঠিক করা

কোন সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব দল নেবে, কোনটি বিভাগীয় প্রধান নেবেন, আর কোন ক্ষেত্রে যৌথ অনুমোদন প্রয়োজন—এটি আগে ঠিক করুন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি না থাকলে পরিকল্পনার কাজ অপেক্ষায় পড়ে থাকে। সিদ্ধান্তের মালিকানা মানে শুধু কাজ দেওয়া নয়; প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার ও জবাবদিহিও নির্ধারণ করা।

Advertisement

অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা, পরামর্শক ও সফটওয়্যার—কোন বিকল্প কখন উপযুক্ত

একটি পদ্ধতি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান কার্যকর নয়। আপনার টিমের অভিজ্ঞতা, তথ্যের মান, সময়ের চাপ এবং কাজের জটিলতা দেখে পদ্ধতি বেছে নিন। বাহ্যিক সহায়তা নিলেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই বাস্তবায়ন হয় না।

নিজস্ব টিমের মাধ্যমে পরিকল্পনার সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

নিজস্ব টিম গ্রাহক, প্রক্রিয়া, কর্মী এবং দৈনন্দিন সমস্যার বাস্তবতা ভালো জানে। তাই পরিকল্পনা বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে একই টিম অনেক সময় পরিচিত অভ্যাসের বাইরে সমস্যা দেখতে পারে না, অথবা নিয়মিত পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারে না। এই পথে গেলে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা-সভা, তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব এবং ফলো-আপের রুটিন রাখুন।

বাহ্যিক কৌশল পরামর্শক নেওয়ার আগে মূল্যায়নের বিষয়

কৌশল পরামর্শক কাঠামোবদ্ধ বিশ্লেষণ, কর্মশালা পরিচালনা বা নিরপেক্ষ প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারেন। কিন্তু তিনি অভ্যন্তরীণ তথ্য, কর্মীদের অংশগ্রহণ বা নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিকল্প নন। কাজের পরিধি কী, কারা সাক্ষাৎকার বা আলোচনায় থাকবেন, গোপন তথ্য কীভাবে ব্যবস্থাপিত হবে এবং পরিকল্পনার পর বাস্তবায়নে কী সহায়তা থাকবে—এসব লিখিতভাবে যাচাই করুন।

পরিকল্পনা ও KPI সফটওয়্যার বাছাইয়ের তুলনা মানদণ্ড

ব্যবসা পরিকল্পনা সফটওয়্যার বা KPI ড্যাশবোর্ড কাজে লাগে যখন লক্ষ্য, কাজ, দায়িত্ব ও রিপোর্ট বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকে। তবে শুধু সফটওয়্যার কিনলেই কৌশল তৈরি হয় না। দেখুন এটি আপনার কাঠামোর সঙ্গে মানানো যায় কি না, কারা কোন তথ্য দেখতে পারবেন, তথ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা কী, এবং টিম সহজে ব্যবহার করতে পারবে কি না। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জটিল টুল নিলে রিপোর্টিংই নতুন বোঝা হয়ে যেতে পারে।

Advertisement

লক্ষ্য থেকে বাস্তবায়ন রোডম্যাপ তৈরির ধাপ

কৌশলকে কার্যকর করতে হলে লক্ষ্যকে উদ্যোগ, উদ্যোগকে কাজ, আর কাজকে দায়িত্ব ও সময়সীমায় নামাতে হয়। একটি রোডম্যাপের উদ্দেশ্য হলো সবাইকে একই অগ্রাধিকার ও নির্ভরতার চিত্র দেখানো।

বাজার, গ্রাহক, প্রতিযোগী ও সক্ষমতা পর্যালোচনা

প্রথমে বাজারের পরিবর্তন, গ্রাহকের চাহিদা, প্রতিযোগিতার অবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করুন। এখানে অনুমানকে তথ্য হিসেবে ব্যবহার করবেন না। কোন তথ্য নিশ্চিত, কোনটি যাচাই প্রয়োজন এবং কোন সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা আছে—তা আলাদা রাখুন। এই পর্যালোচনা থেকে এমন ক্ষেত্র বের করুন যেখানে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা লক্ষ্য পূরণে সহায়ক বা বাধা হতে পারে।

কৌশলগত অগ্রাধিকার ও বাজেট বণ্টন

প্রতিটি প্রস্তাবিত উদ্যোগের জন্য জিজ্ঞেস করুন: এটি কোন লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে, কী সম্পদ লাগবে, অন্য কোন কাজের ওপর নির্ভর করছে এবং এখনই না করলে কী ঝুঁকি থাকবে? এরপর সব উদ্যোগে সমান বাজেট না দিয়ে নির্বাচিত অগ্রাধিকারে সম্পদ দিন। বাজেট বণ্টন কেবল অর্থের হিসাব নয়; নেতৃত্বের সময়, দক্ষ কর্মী এবং ব্যবস্থাপনা মনোযোগও সম্পদ।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সময়সীমা ও নির্ভরতা নির্ধারণ

প্রতিটি অগ্রাধিকারের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রয়োজনীয় সহযোগী দল, পরবর্তী সিদ্ধান্তের সময় এবং প্রধান নির্ভরতা লিখুন। যেমন, একটি বিভাগ কাজ শুরু করার আগে অন্য বিভাগের তথ্য বা অনুমোদন লাগতে পারে। এসব নির্ভরতা দৃশ্যমান না হলে সময়সীমা থাকলেও কাজ আটকে যেতে পারে। পরিকল্পনা সফটওয়্যার ব্যবহার করলে এই দায়িত্ব ও আপডেট এক জায়গায় দেখা সহজ হতে পারে।

Advertisement

KPI, বাজেট ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ভুল

পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার সব কারণ বাইরের নয়। অনেক সময় ভুল লক্ষ্য, অপ্রাসঙ্গিক মাপজোক বা অনিয়মিত পর্যালোচনা থেকেই সমস্যা তৈরি হয়। শুরুতেই এসব ঝুঁকি চিহ্নিত করলে সংশোধন সহজ হয়।

অনেক বেশি লক্ষ্য নেওয়া কেন ঝুঁকিপূর্ণ

একসঙ্গে অনেক লক্ষ্য নিলে বাজেট, কর্মী এবং নেতৃত্বের মনোযোগ ছড়িয়ে যায়। ফল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কাজও ধীর হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি বিভাগকে আলাদা অনেক উদ্যোগ দেওয়ার বদলে প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে তাদের কাজ যুক্ত করুন। নতুন উদ্যোগ যোগ করার আগে দেখুন কোন বিদ্যমান কাজ স্থগিত, পরিবর্তন বা বাদ দেওয়া দরকার কি না।

조직 전략 개발 관련 이미지 2

ফলাফলের বদলে শুধু কাজের সংখ্যা মাপার সমস্যা

সভা হয়েছে, প্রশিক্ষণ হয়েছে বা কাজের তালিকা সম্পন্ন হয়েছে—এসব কার্যক্রমের তথ্য হতে পারে। কিন্তু এগুলো সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেখায় না। তাই KPI নির্ধারণে প্রশ্ন করুন: “এই সূচক কি লক্ষ্যপূরণের অগ্রগতি বোঝাচ্ছে, নাকি শুধু ব্যস্ততা দেখাচ্ছে?” ফলাফলভিত্তিক সূচক এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের সূচক আলাদা রাখলে আলোচনা পরিষ্কার হয়।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পর্যালোচনা না করার ক্ষতি

বাজার, প্রতিযোগী, গ্রাহকের চাহিদা বা অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বদলাতে পারে। তাই কৌশল স্থির নথি হিসেবে রেখে দিলে পুরোনো অনুমানের ওপর কাজ চলতে পারে। নির্দিষ্ট বিরতিতে অগ্রাধিকার, KPI, বাজেট ব্যবহার এবং প্রধান ঝুঁকি পর্যালোচনা করুন। তবে প্রতিটি ছোট পরিবর্তনে পুরো পরিকল্পনা বদলানোরও প্রয়োজন নেই; সিদ্ধান্তের কারণ নথিবদ্ধ রাখুন।

Advertisement

ছোট, মাঝারি ও বহু-বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিন্ন পদ্ধতি

প্রতিষ্ঠানের আকারের সঙ্গে পরিকল্পনার ভাষা ও রিপোর্টিং কাঠামো বদলানো উচিত। অতিরিক্ত জটিল কাঠামো ছোট টিমকে ধীর করে দিতে পারে, আবার খুব সরল পদ্ধতি বহু-বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি করতে পারে।

সীমিত জনবল ও বাজেটের ছোট প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার

ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য কম সংখ্যক অগ্রাধিকার, সহজ রিপোর্টিং এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিমের হাতে থাকা তথ্য দিয়ে আগে মূল বাধা চিহ্নিত করুন। যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে জটিল KPI ড্যাশবোর্ড বা দীর্ঘ পরামর্শক প্রকল্পের বদলে ব্যবহারযোগ্য কাজের তালিকা, দায়িত্ব এবং নিয়মিত পর্যালোচনায় জোর দিন।

প্রবৃদ্ধিশীল প্রতিষ্ঠানে বিভাগগুলোর সমন্বয়

প্রতিষ্ঠান বড় হলে বিক্রয়, পরিচালনা, অর্থ, সেবা বা অন্যান্য বিভাগের লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে না মিললে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। কেন্দ্রীয় কৌশলগত অগ্রাধিকার থেকে বিভাগভিত্তিক কাজ নামান। প্রতিটি বিভাগের KPI কীভাবে একই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে ভূমিকা রাখে, তা স্পষ্ট করুন। এখানেই KPI সফটওয়্যার বা একটি যৌথ রিপোর্টিং কাঠামো সহায়ক হতে পারে।

জটিল প্রতিষ্ঠানে গভর্ন্যান্স ও রিপোর্টিং কাঠামো

বহু-বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানে গভর্ন্যান্স গুরুত্বপূর্ণ: কে অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন, কোন পর্যায়ে ঝুঁকি তোলা হবে, এবং কোন সিদ্ধান্ত কোথায় অনুমোদিত হবে তা লিখিত রাখুন। রিপোর্টিংয়ের উদ্দেশ্য যেন শুধু তথ্য জমা নয়, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই প্রতিবেদনে লক্ষ্য, অগ্রগতি, বাধা, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ আলাদা করে দেখানো ভালো।

Advertisement

নির্বাচন মানদণ্ড ও তুলনা সারাংশ

নিজস্ব টিম বেছে নিন যদি নেতৃত্বের সময়, অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব স্পষ্ট থাকে। পরামর্শক বা কর্পোরেট ট্রেনিং বিবেচনা করুন যদি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ, কাঠামোবদ্ধ কর্মশালা বা টিমের কৌশলগত দক্ষতা উন্নয়ন দরকার হয়। পরিকল্পনা সফটওয়্যার বা KPI ড্যাশবোর্ড বিবেচনা করুন যদি দায়িত্ব, সময়সীমা ও রিপোর্ট বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে থাকে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাজেট, ডেটা নিরাপত্তা, কাস্টমাইজেশন, ব্যবহার সহজতা, কর্মী অংশগ্রহণ এবং বাস্তবায়ন সহায়তা যাচাই করুন। সেবা বা সফটওয়্যার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক বিবরণ, নিরাপত্তা শর্ত, ব্যবহারকারীর অনুমতি এবং সহায়তার বিস্তারিত সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় দেখে নিন।

Advertisement

শেষ কথা

ভালো কৌশল এমন একটি সিদ্ধান্তের কাঠামো, যা বলে দেয় কোন কাজ এখন গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন কাজ পরে করা যাবে। লক্ষ্য, অগ্রাধিকার, বাজেট, দায়িত্ব ও KPI একসঙ্গে না ভাবলে বাস্তবায়ন দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ছোট পরিসরে শুরু করলেও নিয়মিত পর্যালোচনা ও স্পষ্ট মালিকানা রাখুন। প্রয়োজন হলে বাহ্যিক সহায়তা নিন, তবে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই রাখুন।

Advertisement

জেনে রাখলে কাজে লাগবে

১. একই KPI সব শিল্প বা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত নয়।
২. বাজেটের সঙ্গে নেতৃত্বের সময় ও দক্ষ কর্মীর প্রাপ্যতাও হিসাব করুন।
৩. বাহ্যিক পরামর্শক পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারেন, কিন্তু কর্মীদের অংশগ্রহণের বিকল্প নন।
৪. সফটওয়্যার ব্যবহারের আগে ডেটা প্রবেশাধিকার ও গোপনীয়তার শর্ত যাচাই করুন।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে

কোন কৌশল, KPI, সময়সীমা বা বিনিয়োগ পদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা প্রতিষ্ঠানের বাজার, প্রতিযোগিতা, সক্ষমতা এবং তথ্যের ওপর নির্ভর করে। পরামর্শক, সফটওয়্যার বা প্রশিক্ষণের খরচ ও ফলাফলও সরবরাহকারী এবং ব্যবহারের ধরনভেদে যাচাই করা প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজস্ব তথ্য, ঝুঁকি এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা পর্যালোচনা করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

Q1. প্রতিষ্ঠানের কৌশল তৈরি করতে কি বাহ্যিক পরামর্শক নেওয়া প্রয়োজন?

A1. সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। নিজস্ব টিমের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য, নেতৃত্বের সময় এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা থাকলে অভ্যন্তরীণভাবেও কাজ করা যায়। জটিল সমস্যা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ বা কাঠামোবদ্ধ কর্মশালার প্রয়োজন হলে পরামর্শক বিবেচনা করা যেতে পারে।

Q2. কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য বাজেট কীভাবে নির্ধারণ করা উচিত?

A2. আগে অগ্রাধিকার উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করুন, তারপর অর্থের পাশাপাশি কর্মী, সময় এবং ব্যবস্থাপনা মনোযোগের প্রয়োজন বিবেচনা করুন। সব উদ্যোগে একসঙ্গে বিনিয়োগ না করে লক্ষ্যপূরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে সম্পদ বরাদ্দ দিন।

Q3. একটি কার্যকর কৌশলে কতগুলো KPI রাখা নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত?

A3. এর জন্য সব প্রতিষ্ঠানের উপযোগী একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। এমন সংখ্যক KPI রাখুন যা নেতৃত্ব দল নিয়মিত বুঝতে, পর্যালোচনা করতে এবং প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্তে ব্যবহার করতে পারে। সূচকগুলো যেন কাজের সংখ্যা নয়, লক্ষ্যপূরণের অগ্রগতি বোঝাতে সহায়তা করে।